১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে চার্লস ব্রেডলের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ইনি সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরম্ভ করেন । সেই সময় ইনি ‘ ফেবিয়ান সােসাইটির সদস্য হন।‘নােলটন প্যাম্ফলেট ’ নামে পুস্তিকা প্রকাশ করার অপরাধে এঁরা কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন । কিন্তু আপিলে অব্যহতি পান । এই সময় তিনি ‘ অ্যানেক্স ’ ছদ্মনামে সংবাদপত্রে লিখতেন ।
১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে মাদাম ব্লাবাকীর প্রভাবে এসে অ্যানি Theosophical Society টির সদস্যা হন এবং নিরামিষ আহার শুরু করেন । এরপর ভারতবর্ষে এসে তিনি হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন এবং কাশীতে ‘ থিওসফিক্যাল সােসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন । ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেখানকার বিখ্যাত সেন্ট্রাল হিন্দু কলেজ স্থাপন করেন ।
নিজের রচিত গ্রন্থাবলির আয় তিনি জনহিতকর কাজে ব্যয় করতেন । কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মূলে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন । অ্যানি বেসান্ত । ওই বিশ্ববিদ্যালয় পরে তাকে ডি . এল . উপাধিতে ভূষিত করেন ।
থিওসফিক্যাল সােসাইটি ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদে নিযুক্ত করেন । সমিতির পত্রিকা ‘ The Theosophist ’ - এর কাজে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ পর্যটন করেন ব্যাসান্ত । নিজের রাজনৈতিক মত প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি ‘ কমন উইন ’ নামে একটা পত্রিকা প্রকাশ করেন । পরে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ‘ ম্যাডরাস স্ট্যান্ডার্ড নামে দৈনিক সংবাদপত্রের স্বত্ব কিনে তিনি তা ‘ নিউ ইন্ডিয়া ’ নামে প্রকাশ করেন ।
১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে ইনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যােগদান করেন এবং দেশের সর্বত্র সভাসমিতি করে আর প্রবন্ধাদি লিখে স্বাধীনতা আন্দোলন পরিচালনা করতে শুরু করেন । এই কারণে তাঁকে কারাদণ্ড ভােগ করতে হয় । কারামুক্তির পরের বৎসরই ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে ইনি সভানেত্রীর পদত্ব করেন ।
‘Home Rule League ’ স্থাপন করে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিখ্যাত হােমরুল আন্দোলনের ইনিই ছিলেন প্রধান পরিচালিকা।
১৯২৬-২৭ খ্রিস্টাব্দে ইনি জিদ্দু কৃষ্ণমূর্তির সঙ্গে ইংল্যান্ড ও আমেরিক ভ্রমণ করেন এবং সেখানে তাঁকে নতুন ত্রাণকর্তা হিসাবে প্রচার করেন । তাঁর লিখিত গ্রন্থগুলাে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত ।
) অ্যানি বেসান্ত পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নেন ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে । পরিতাপের বিষয় হল , একজন বিদেশিনী হয়েও ভারতকে যিনি স্বদেশ হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন , খ্রিস্টধর্ম ছেড়ে যিনি সনাতন হিন্দুধর্মে দীক্ষা নিয়েছিলেন সেই অ্যানি বেসান্ত সম্পর্কে তেমন কিছু করা হয়নি । জাতীয় কংগ্রেস দীর্ঘদিন ভারত শাসন করেছে , কিন্তু তাদের সংগঠনের একজন সভাপতির স্মৃতিরক্ষায় তেমন কিছুই করেননি । একজন বিদেশিনী হয়েও অ্যানির ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠার ঘটনা ভগিনী নিবেদিতার সঙ্গে তুলনীয় । এঁরা দু'জনই হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেছিলেন ।

0 Comments