প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশের জীবনী ( Biography of Prasanta Chandra Mahalanobis)



পরিসংখ্যান (statistics) বিজ্ঞানে ভারত বিংশ শতাব্দীতেও পৃথিবীর অনেক দেশ অপেক্ষা বেশ পিছিয়ে ছিল । প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ এই বিজ্ঞানকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যান । ইনি ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতার নাম প্রবােধচন্দ্র । ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার Presidency College থেকে Honours সহ B.Sc পাশ করেন এবং Higher Education এর জন্য বিলেতে যান । ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি Cambridge University থেকে mathematics ও Physics তে ট্রাইপােজ ডিগ্রি নিয়ে স্বদেশে ফেরেন । তিনি Presidency College এর অধ্যাপক হন।





গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পূরণ করার সঙ্গে সঙ্গে statistics নিয়ে গবেষণা চালাতে থাকেন প্রশান্তচন্দ্র । তিনি ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে ভারতের statistics পরিষদের অবৈতনিক সম্পাদক হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারই প্রচেষ্টায় statistics চালু হয় । তিনিই সেই বিষয়ের অধ্যাপক হন।





তাঁর গবেষণার মধ্যে অনুবদ্ধ গুণক , কৃষি পরিসংখ্যানের প্রয়ােগ ও জনসংখ্যা সম্পৰ্কীয় নিরীক্ষা উল্লেখযােগ্য । ভারত সরকারের প্রথম ও দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার তিনি উপদেষ্টা ছিলেন । নৃতত্ত্বে ও আবহাওয়া তত্ত্বে তাঁর অবদান আছে । ওড়িশার হীরাকুঁদ বাঁধ নির্মাণে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল । INDIAN STATISTICAL INSTITUTE তারই উদ্যোগে স্থাপিত হয় । প্রশান্তচন্দ্রের তথবদ্ধনে ক্রমে ক্রমে INDIAN STATISTICAL INSTITUTE আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে । তার মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত তিনিই সংস্থার সর্বেসর্বা ছিলেন।





প্রশান্তচন্দ্র দেশ - বিদেশ থেকে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন । ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে LONDON ROYAL SOCIETY এর ফেলাে নির্বাচিত হন । ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্মিলত জাতিপুঞ্জ পরিসংখ্যান কমিশনের সভাপতি হয়েছিলেন । ইংলন্ডের Cambridge University ও oxford University এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , সােভিয়েত ইউনিয়ন , চেকোস্লোভাকিয়া , পাকিস্তান প্রভৃতি দেশের বিভিন্ন সংস্থা থেকেও তার বৈজ্ঞানিক প্রতিভার প্রতি স্বীকৃতি জানানাে হয়েছিল ।





১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ভারত সরকারের পরিসংখ্যান সম্পর্কিত কাজকর্মে প্রশান্তচন্দ্র উপদেষ্টা রূপে কাজ করেন । ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রশান্তচন্দ্র Planning Commission এর কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । নমুনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের যে পদ্ধতি তিনি আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়।





১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের মূল সভাপতির পদে তিনি নিযুক্ত হন । বিজ্ঞান ও স্বদেশের প্রতি তার অবদানের জন্য ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভারত সরকারের কাছ থেকে PADMABHUSHAN উপাধি লাভ করেন । ভারত পরিসংখ্যান বিজ্ঞানে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশের কথা কোনােদিন ভুলতে পারবে না । ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুন তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।





আজ ভারতে যে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিয়ে Pandit Jahawarlal Nehru থেকে Atal Bihari Vajpee কৃতিত্ব দাবি করেন তার প্রধান রূপকার অবশ্যই প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ । আমরা গর্বিত যে একজন সম্পূর্ণরূপে বাঙালি মানুষ স্বাধীন ভারতের অর্থনীতি পুনর্গঠনে একটি প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন বলে । আজও যখন উত্তর শহরতলির B.T. ROAD দিয়ে আমরা যাই তখন INDIAN STATISTICAL INSTITUTE এর সুদীর্ঘ এলাকা সব বাঙালিকে গর্বে অদ্ভুত করে । চোখে ভেসে ওঠে সেই গােল ফ্রেমের চশমা পরা প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশের ছবিটি ।







Post a Comment

0 Comments