তিনি এম.এ. , বি.এল. এবং ল . অনার্স পাশ করেন । শিক্ষাশেষে প্রেসিডেন্সি কলেজ , জেনারেল অ্যাসেম্বলি ইনস্টিটিউশন এবং বহরমপুর কলেজে অধ্যাপনা করেন ।
পরে মুর্শিদাবাদের নবাবের আইন উপদেষ্টা হিসাবে নিযুক্ত হন । গুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন । ইনি ডি , এল , উপাধি পান ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে এবং তার পরের বছর বিচারপতির পদ লাভ করেন ।
বিচারকের পদে তিনি কাজ করেন টানা ষােলাে বছর । এরপর অবসর গ্রহণ করেন । এই সময়ে তিনি কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কমিশনার ও বাংলার ব্যবস্থাপক সভার সদস্য হন । ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠাকুর আইন অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন ।
১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য ও আইন পরীক্ষক এবং তিন বছর সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন । ঠাকুর আইন অধ্যাপক রূপে তিনি যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তা ‘ হিন্দু ল , ম্যারেজ অ্যান্ড স্ত্রী ধন ’ নামে প্রকাশিত হয় । তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার সুবাদে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের প্রথম ভারতীয় উপাচার্য হন ।
১৯০২ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য হন এবং সদস্য হিসাবে তার লিপিবদ্ধ বক্তব্য জাতীয় শিক্ষার সহায়ক বলে বিবেচিত হয় । ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ‘ ল , ফ্যাকালটির ডীনরূপে মনােনীত হন । ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকার তাকে নাইটহুড এবং কলকাতা বিশ্বাবিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধি দান করে । স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ জ্ঞান ও কর্ম ’ , ‘ শিক্ষা ’ , ‘ এ ফিউ থটস অন এডুকেশন ’ এবং “ দি এডুকেশন প্রবলেম ইন ইন্ডিয়া ' নামে চারটি বই লেখেন । যাদবপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ।

0 Comments