মাত্র ২৩ বছর বয়সে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজ পাের্টট্রাস্টে তিনি কেরানির কাজ নেন । স্কুলে পড়তে পড়তে ফলিত গণিত তিনি শেষ করে ফেলেছিলেন । প্রবেশিকা ও এফ . এ . - তে সর্বাধিক নম্বর পেয়েছেন । তার গণিত সম্পর্কীয় মেধার প্রচার সর্বত্রই হয়েছিল । মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় সুযােগ দিল এফ . এ . ফেল করা রামানুজমকে গবেষণা করার । Cambridge University এর এক দল অধ্যাপক ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন । ড . জি . এইচ . হার্ডি এই দলে ছিলেন । রামানুজমের সঙ্গে তার পরিচয় হয় । এই অল্পবয়স্ক তরুণের মেধা দেখে তিনি অবাক হন । কিন্তু তিনি বিদেশ যেতে অসম্মত হন । কারণ দেখান তিনি ব্রাহ্মণ ।
এরপর ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে কেম্বুিজের অধ্যাপক মি . নেভিল ভারত ভ্রমণে এলে রামানুজমের সঙ্গে দেখা করে তাকে কেম্ব্রিজ যাওয়ার জন্য আবার অনুরােধ করেন । তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি চিঠি দিয়ে জানান , রামানুজমের প্রতিভার আবিষ্কার আমাদের বর্তমান গণিতশাস্ত্রের জগতে একটি সর্বপ্রধান ঘটনা । ফলিত গণিতের ইতিহাসে রামানুজমের নাম অক্ষয় হয়ে থাকবে ।
মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ছ বছরের জন্য বছরে ২৫০ পাউন্ডের এক বৃত্তি দেয় । পরে রামানুজম বিলেতে যান এবং সেখানে থেকে এর উপকারিতা উপলব্ধি করেন । তিনি Cambridge University এর কলেজে ভর্তি হন এবং অধ্যাপক হার্ডির পরিচালনায় গবেষণা করেন । এই বিশ্ববিদ্যালয় তাকে দেয় ৬০ পাউন্ডের বৃত্তি । রামানুজম মাছ - মাংস স্পর্শ করতেন না । কিন্তু শীতপ্রধান দেশে মাছ মাংস খেলে স্বাস্থ্য রক্ষা করা অসম্ভব । সেইজন্য ইংল্যান্ডে গিয়ে তার স্বাস্থ্য ভেঙে যায় । তিনি কিছুদিনের মধ্যেই যক্ষ্মারােগে আক্রান্ত হন । শরীর দারুণভাবে নষ্ট হওয়ার জন্য তাকে স্যানিটোরিয়ামে থাকতে হয় ।
এর মধ্যে রামানুজমের খ্যাতি বৈজ্ঞানিক জগতে ছড়িয়ে পড়ে । ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি Fellow of the Royal Society মনােনীত হন । একজন বৈজ্ঞানিকের পক্ষে এই পদ পাওয়া খুবই সম্মানের । তিনিই রয়্যাল সােসাইটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ এফ . আর . এস .। এই সম্মানে উৎসাহিত হয়ে রামানুজম ভাঙা স্বাস্থ্য নিয়েই আবার গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন । সেই বছরই তাঁকে কেন্ত্রিজের Cambridge Trinity College এর ফেলাে নির্বাচিত করা হয় এবং তখন থেকে তার বৃত্তির অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ২৫০ পাউন্ড । এইসব সম্মান পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রামানুজম দেশে ফিরতে পারলেন না । কারণ তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছে । জাহাজে করে ফেরা মােটেই নিরাপদ নয় । যুদ্ধ শেষে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি বােম্বাই পৌঁছান । ততদিন তার স্বাস্থ্য একেবারে ভেঙে গেছে । জীবনী শক্তি প্রায় শেষ । তবু জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেই অঙ্কশাস্ত্রবিদ বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।
রামানুজম আরাে কিছুদিন বাঁচলে নিশ্চয়ই এই পৃথিবীতে গণিতের ব্যাপারে আরাে নতুন নতুন তথ্য দিয়ে যেতে পারতেন । এটা পৃথিবী তথা ভারতের পক্ষে এক বিরাট ক্ষতি ।

0 Comments