সাফল্যের দশটি মূলসূত্র




এক : নিজের স্বার্থ দিয়ে জীবনকে কোন দিন পরিমাপ করবেন না । তাতে সাফল্য আসার সম্ভাবনা কম । সংসারের সবাইকে নিয়ে আনন্দে বেঁচে থাকুন । জীবন শান্তিপূর্ণ ও সাফল্য মণ্ডিত হবে ।





দুই : মনকে সর্বদা খুশী রাখতে চেষ্টা করুন । চিন্তা ভাবনায় ডুবে থাকবেন না । সর্বদা দুশ্চিন্তায় ভুগলে কোন ভাল কাজ হবে না । মান - অপমানকে তুচ্ছ জ্ঞান করুন । সর্বদা ভাববেন , সব মানুষকেই একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে । এটাও জানবেন , কেউ আপনাকে অপমান করে সে সুখে শান্তিতে নেই । আবার প্রচুর অর্থবান লোকেরাও নিশ্চিন্ত নন ৷ তাই সাফল্য আপনার মনে ।





তিন : : হতাশা বা টেনসনকে ধারে - কাছে ঘেসতে দেবেন না । নিয়মিত পরিশ্রম করুন । সেই সঙ্গে আত্মবিশ্বাস রাখুন । সাফল্য আসবেই ।





চার : বিবেকানন্দ বলেছেন - -জীবনের একটা লক্ষ্য রাখুন । মহাজ্ঞানী মহাজনদের পথ অনুসরণ করুন । জীবনে এলোই বা দুঃখ । তাতে ক্ষতি কি ? দুঃখের পর সুখ আসতে বাধ্য ৷ আমি কি কোনদিন ভাবতে পেরেছিলাম — আমেরিকার শিকাগোর ধর্ম সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে পারব । তবে আত্মবিশ্বাসই আমাকে জয়ের মালা পরিয়ে দিয়েছে ।





পাঁচ : মন যে কাজ করে উন্নতি লাভ করতে চায় সে দিকেই এগিয়ে যান । প্রফেসর হতে চান — ধরে থাকুন । ব্যর্থতায় ভুগবেন না । আজ না হয় কাল - না হয় পরশু সাফল্য লাভ হবেই । অধ্যবসায়ী হোন — জয় অবশ্যম্ভাবী । লেগে থাকলে কোন কাজ আটকায় না ।





ছয় : বিবেকানন্দের মতে -ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিন । সাফল্য হবেই । ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করলে সাফল্য আসবে না । সাফল্যের লক্ষ্য হবে ওপর দিকে তাকানো । আবার সাফল্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু অনুপ্রেরণাকারী প্রয়োজন ।







যেমন , আমার প্রাণের ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন । যার ফলে লোকে আমাকে বিবেকানন্দ বলে ৷ বিদ্যাসাগর তার মায়ের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন । শচীন তেণ্ডুলকরকে তার গুরু রমাকান্ত সাফল্যের পথে পাঠিয়েছিলেন । অমিতাভ বচ্চনকে তার মা তেজি বচ্চন দিয়েছিলেন প্রেরণা । মারাদোনাকে তার বন্ধুবান্ধবরা প্রেরণা দিয়েছিলেন । আমেরিকার রাষ্ট্রনায়ক বিল ক্লিন্টনকে তার স্ত্রী হিলারী ক্লিন্টন দিয়েছিলেন সাফল্যের অনুপ্রেরণা । রবীন্দ্রনাথ তার দাদা ও বৌদির কাছ থেকে পেয়েছিলেন উৎসাহ ।







সাত : জড়তা ত্যাগ করে কাজে নেমে পড়ুন । উত্তিষ্ঠতঃ নিবোধত । সাফল্য পাবেন ।





আট : নিয়মানুবর্তিতা - অধ্যবসায় - চেতনাবোধ আর কথার মূল্যরক্ষা — এই চারটি জিনিস যার মধ্যে আছে তিনিই সফল ৷ বিবেকহীন মানুষ কোনদিন সফল ব্যক্তি হতে পারে না । বিশ্বাসঘাতকরা কোনদিন প্রতিষ্ঠালাভ করতে পারে না । এক প্রকাশক বই প্রকাশ ও ব্যবসার ব্যাপারে বছরে ২৫/৩০ লক্ষ টাকা বাজেট রাখেন । কিন্তু বিবেক - চেতনা - নিয়মানুবর্তিতা ও মানুষের সাথে কথার দাম রাখতে না পারার ফলে এবং অতি চালাকী করার জন্য দশবছর ব্যবসা করেও জীবনে সফল হতে পারেন নি । নিত্য অভাবে তিনি জর্জরিত ।





নয় : তাই বলছি অতি চালাকি করবেন না । বিশ্বাসের মূল্য দিন । কথার দাম দিন । চেতনাকে জাগ্রত রাখুন ৷ শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখুন । সাফল্যের সূর্য দেখতে পাবেন । চালাকির দ্বারা কোন মহৎ কাজ সম্ভব হয় না ।





দশ : আত্মনির্ভরশীল হোন । নিজের উপর ভরসা রেখে কাজ করুন । কাজের Negative Point গুলো ভাবুন । আত্মবিশ্বাসই বড় । তারপর ধৈর্য । Self confidence is the root of suceess . মনে মনে চিন্তা করে বড় কাজ করবেন । সাফল্যমূলক কাজ সম্পর্কে প্রথমেই কাউকে জানাবেন না । কারণ— মনসা চিন্তিতং কর্ম বচসা ন প্রকাশয়েৎ । অন্যলক্ষিত কার্যঞ্চ ততো সিদ্ধি ন জায়তে ।। বিশেষ করে Business , Weeding , Examination , Govt . Service , House Building , Printing and Publishing ইত্যাদি কাজ করার আগে কাউকে জানাবেন না । তাতে বাধা আসবে । কারণ কেউ কারো achievement বা development সহ্য করতে পারেন না । পরিশেষে বলি , উল্লিখিত সূত্রগুলি অনুসরণ করলে আপনি অবশ্যই জীবনে সাফল্য লাভ করবেন ।









Post a Comment

0 Comments